হোম > রাজধানী

ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীর রহস্যজনক আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সহপাঠীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের প্রকাশ্য অপমান ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সুকন্যা (১৬)। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শত শত শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।

ঘটনার পর থেকেই দনিয়া ও কদমতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে। অনেকের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সহপাঠীর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানায়। ফেসবুক লাইভে সম্প্রচার হওয়া কয়েকটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) মডেল টেস্ট পরীক্ষার সময় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সুকন্যাকে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে তাকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ সহপাঠীদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকে স্কুল ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ও কয়েকজন শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চেয়ারম্যান আহত হন। পরে কদমতলী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বারবার বলছিল, শিক্ষকের অপমানেই সুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক অভিভাবক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কদমতলী থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আত্মহত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে যেন নতুন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ, অপমানজনক আচরণ এবং কাউন্সেলিং সংকটের বিষয়টি সামনে আনছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এএস

পুলিশ বক্সের সামনে প্রাণ গেল মাস্টার্স শিক্ষার্থীর

দিল্লির সাম্প্রদায়িক চরিত্র হিন্দুস্তানের মুসলমানদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

কলমিতলা মার্কেটে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জামায়াতের আর্থিক সহায়তা

‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না’— স্তব্ধ পিতার আর্তনাদ

ঢাকা শহরকে ফুল ও গাছ দিয়ে সাজাতে চায় ডিএসসিসি

ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ ও গতি নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ

অপরাধী যে দলেরই হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হবে

বিমানের মিজানের পদোন্নতি, পরে সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীতে ৮ বছরের শিশু হত্যা, প্রতিবেশী পলাতক