রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ একটি কক্ষের ভেতর কম্বল পেঁচানো অবস্থায় নিশি আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ স্টাফ কোয়ার্টারের ওই কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী সাগর পলাতক রয়েছেন। তার সন্ধানে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন সড়ক ও জনপথ স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষ থেকে নিশির লাশ উদ্ধারের খবর আসে দুপুরে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, কক্ষটির দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর কম্বল দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল হামিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিশির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরে লাশটি কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে কক্ষের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে হত্যাকারী চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত নিশি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মো. খোকনের মেয়ে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে সাগরের সঙ্গে তার সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে। শিশুটি পাশের বাড়িতে দাদা-দাদির সঙ্গে থাকে। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাগর মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সাগরের নিখোঁজ থাকা এবং কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তালিকায় তার স্বামীই রয়েছেন। তবে তিনি কোথায় রয়েছেন, কেন তিনি পলাতক এবং হত্যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। নিশিকে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না এবং হত্যার পর কে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে গেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।