প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং ডিউটির কোনো ঘাটতি না থাকে। সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।