রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় জড়িত শীর্ষ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে মোহাম্মদপুর এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে তাদের ধরা হয়। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এই চক্র। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে এক ছিনতাইকারী আহত হয়।
মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা।
অভিযান চলাকালে আসামি পলাশ সরকার চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ধানমন্ডি থানার এসআই মো. সাইফুল আলমের পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অন্য আসামি সাকিব সরকার চাপাতি দিয়ে এসআই সাইফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিতে গেলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সাকিবের পায়ে গুলি লাগে। এছাড়া এসআই সাফায়েদুর রহমানের ওপরও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: মো. পলাশ সরকার ওরফে পলাশ (২৯) (মূল হোতা ও হত্যা মামলার আসামি), সাকিব সরকার ওরফে সাকিব (২০), বিপ্লব হোসেন (৩১)।
তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত এবং লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি চাপাতি, তিনটি বিভিন্ন ধরনের ছুরি ও একটি খেলনা পিস্তল, বিভিন্ন মডেলের আটটি মোবাইল ফোন এবং একটি মোটরসাইকেল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তারা ঢাকার অন্যতম শীর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। বিশেষ করে পলাশ সরকারের বিরুদ্ধে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল।
ডিএমপির মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আহত পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলআর