আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে উত্তরা দিয়াবাড়ি হাটের ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে আনা বিশাল আকৃতির খাসি ‘ফাটাকেষ্ট’। উত্তরা দিয়াবাড়ি হাটে প্রদর্শিত এই খাসির দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
শনিবার উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ফাটাকেষ্টকে দর্শনার্থীদের কেউ বিস্কুট কিনে খাওয়াচ্ছেন, আবার কেউ জুস ও মজো কিনে খাওয়াচ্ছেন। কেউ আবার নিজ হাতে ঘাস তুলে খাওয়াচ্ছেন পশুটিকে।
ছাগলটির মালিক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, তোতা পুরি (ক্রস) জাতের ‘ফাটাকেষ্ট’-এর বয়স চার বছর। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে তাকে। কাঠালপাতা, ভুট্টা ও দেশি ঘাস খাইয়ে বড় করা হলেও তরল খাবারের প্রতি এর বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। মোজো, জুস এমনকি চা-বিস্কুটও খেতে পছন্দ করে ছাগলটি।
তিনি বলেন, ফাটাকেষ্টকে আমি সন্তানের মতো করে বড় করেছি। চার বছর ধরে অনেক যত্ন নিয়েছি। ওজন অন্তত তিন মণ হবে। খাঁটি খাবার খাওয়ানো হয়েছে, কোনো ধরনের ঝামেলা নেই। এখন পর্যন্ত অনেকেই ভালো দাম বলছেন। তবে খরচ পোষাতে হলে অন্তত আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পেতে হবে।
হাটে আসা দর্শনার্থীরাও ‘ফাটাকেষ্ট’কে ঘিরে ভিড় করছেন। উত্তরা থেকে গরু কিনতে আসা হোসাইন বলেন, এত বড় খাসি আগে কখনো সামনাসামনি দেখিনি। শিংগুলোও খুব সুন্দর। দেখতে সত্যিই দারুণ লাগছে।
বিকেলে দেখা যায় শিশু শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন ছাগলটির শিং ধরে খেলছেন। পরে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে আমার দেশকে বলে, এত বড় ছাগল। খুবই সুন্দর। আর অনেক শান্ত। কাউকে কিছু বলে না। আমার হলে বিক্রি করতাম না, পালতাম।
উত্তরা দিয়াবাড়ি হাটের উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের পূর্ব পাশে রাখা হয়েছে আলোচিত এই ‘ফাটাকেষ্ট’কে। গতকাল আসার পর থেকেই মুক্ত রয়েছে সে। এদিক সেদিক হেঁটে ও বসে সময় কাটাচ্ছে ফাটাকেষ্ট। সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ ছাগলটি দেখতে ভিড় করছেন।