হোম > রাজধানী > ঢাকা দক্ষিণ

রাজধানীতে ফোম কারখানায় আগুন, ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর কদমতলীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি ফোম তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। ফোম, টায়ার জাতীয় সামগ্রী ও কাপড়ের কারণে মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। ৩ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। আগুন নেভাতে গিয়ে অতিরিক্ত তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক ফায়ার ফাইটার, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর কদমতলী থানাধীন একটি সরু গলির ভেতরে থাকা ফোম রিসাইক্লিং কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি সেমিপাকা ভবনেও। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের শিখা দূর থেকেও দেখা যায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে বাসা ও দোকান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় আরও চারটি ইউনিট যোগ দেয়। আগুন লাগা কারখানাটি মূল সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে হওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে শুরু থেকেই বেগ পেতে হয়। সরু পথ, এবং পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। তিনি জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চারপাশে নিরাপত্তা ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পাশের একটি পুকুর থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালানো হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন আশপাশের আবাসিক ভবন ও দোকানে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তিনি বলেন, কারখানাটিতে পুরোনো ফোম সংগ্রহ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হতো। সেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য ফোম, ম্যাট্রেস তৈরির কাপড় ও টায়ারজাতীয় উপকরণ মজুত ছিল। এসব কারণে আগুন দ্রুত উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানান, এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা মেরামতের কাজ করেন। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার কিছুক্ষণ পর কারখানার ভেতরের সার্কিট থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর তদন্ত করে প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফোম ও দাহ্য সামগ্রীর ব্যবসা চললেও তদারকি ছিল না। আগুন লাগার পর এলাকার সরু রাস্তায় মানুষের ভিড় ও যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বিলম্ব হয় বলেও জানান তারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ফেসবুক লাইভে দেখা যায়, আগুনের তীব্রতায় আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। স্থানীয় অনেকেই মোবাইল ফোনে আগুনের দৃশ্য ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নগর

পরিকল্পনাবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন দাহ্য কারখানা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের বিভিন্ন স্থানে পানি ছিটিয়ে ড্যাম্পিং ডাউন কার্যক্রম চালান, যাতে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।

এমই

কামরাঙ্গীরচরে ৫ বছরের শিশু জান্নাতের প্রাণ কেড়ে নিল অটোরিকশা

প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ডিএসসিসিতে ‘ক্লিনিং ডে’

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তেমন নেই: ডিএমপি কমিশনার

বাসাবোতে অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস ডিএসসিসি প্রশাসকের

যাত্রাবাড়ীতে জ্যামে আটকে থাকা প্রাইভেটকার চালককে ছুরিকাঘাত

ঢাকা শহরকে নিজের আঙিনার মতো করে সাজাতে চাই

দক্ষিণগাঁও ও নন্দীপাড়ায় রাস্তা উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জাতিসংঘে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ

কামরাঙ্গীরচরে চাঞ্চল্যকর ইয়াকুব হত্যাকাণ্ডে মূল হোতা ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার

হাজারীবাগে অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে ব্যাটারিচালিত অটো ছিনতাই