হোম > রাজধানী > ঢাকা দক্ষিণ

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশের মৃত্যু

পুলিশের নথিতে ৩৯ খুনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর রামপুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে ১২ জুন রামপুরা টিভি সেন্টারের বিপরীতে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন কোমায় থাকার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে ৩৯টি খুনের অভিযোগ ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাইল্যা পলাশের ওপর হামলার নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার, পুরোনো দ্বন্দ্ব এবং অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন তার স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরো অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র জানায়, পলাশের স্ত্রীর মামলায় জিসান আহমেদ মন্টিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ও সজীবের নাম মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ইমাম হোসেনকে বাড্ডা ও মারুফ সুলতানকে হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের নথিতে ৩৯ খুনের অভিযোগ

একসময় গলির মাস্তান নামে পরিচিত ছিল মোহাম্মদ ইয়াছিন আলী খান পলাশ। তখন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে ফাইভস্টার গ্রুপ ও সেভেনস্টার গ্রুপ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দুভাগে বিভক্ত করে চাঁদাবাজি, খুনোখুনি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রিত হতো। রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশের গলিতে পূর্ব রামপুরার উলন এলাকায় ৩৭২ নম্বর ডিআইপি রোডে পলাশের পৈতৃক তিনতলা বাড়ি। ওই বাড়ির পাশেই দুটি ভবনে গার্মেন্টস ছিল। ওই দুই গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করত পলাশ। সেটি ১৯৯৭ সালের কথা। পলাশ নামে রামপুরায় অন্তত ১০-১৫ জন ছিল, যারা গলির মাস্তান বাহিনীতে জড়িত ছিল। একাধিক ব্যক্তির একই নাম হওয়ার কারণে তিনি নিজেই মানুষকে বলতেন, আমি কাইল্যা পলাশ। এরপর থেকে কাইল্যা পলাশ নাম ছড়িয়ে পড়ে রামপুরা এলাকায়। রামপুরায় তখন শতাধিক গার্মেন্টস ছিল। এসব গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রক পলাশ।

পলাশের সঙ্গে বিরোধ বাধে মীরবাগের বড় রাইছের ভাইগ্না স্বপনের সঙ্গে। স্বপন রামপুরার বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসের ঝুট নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এরপরই এক দুপুরে মীরবাগে পলাশ তার দুই সহযোগীকে নিয়ে পিস্তল দিয়ে গুলি করে স্বপনকে হত্যা করে। দিনে-দুপুরে দুই হাতে পিস্তল থেকে গুলি করে দেখে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় থেকে কাইল্যা পলাশের নাম ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে উচ্চারিত হতে থাকে।

পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৩৯ জন খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে টিয়া লিটনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনাটি ছিল আলোচিত। এরপর রামপুরার পলাশবাগে নবু মার্ডার, মালিবাগে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহবুব হত্যা, রামপুরায় মাস্টার ফেল নামে এক প্রতিপক্ষকে হত্যা, মতিঝিলে ট্রাফিক পুলিশকে গুলি করে হত্যা, রামপুরায় মুফতি মসজিদ গলিতে এক গার্মেন্টস শ্রমিককে গুলি করে হত্যা এবং রামপুরায় জিসান গ্রুপের আনোয়ারকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব খুনের ঘটনায় কোনো না কোনোভাবে কাইল্যা পলাশ জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুরোনো শত্রুতার জের

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০২ সালে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা এবং পরবর্তী সময়ে আনোয়ারুল নামে আরেক ব্যক্তি হত্যাকে কেন্দ্র করে জিসান গ্রুপের সঙ্গে পলাশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পলাশ আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারাগারে থেকেও প্রভাব বিস্তার

২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন কাইল্যা পলাশ। বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে উচ্চ আদালত সে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

যুবদল নেতা মিজান ছিলেন রামপুরার মীরবাগের বড় রইছের আপন চাচাতো ভাই। রইছের ভাগনে স্বপন হত্যার পর যুবদল নেতা মিজান কাইল্যা পলাশের চাঁদাবাজির এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। মিজান হত্যার ঘটনাটি এতই ভয়ংকর ছিল যে, একজন ডিবি কর্মকর্তা বলেন, মিজানের বাড়ির সামনে তাকে গুলির পর কাইল্যা পলাশ পালিয়ে যায়। পরে যখন জানতে পারেন মিজান বেঁচে আছেন, তখন মোটরসাইকেলে করে আবারও মিজানের বাড়ির সামনে চলে আসেন। তখন মিজানকে একটি বেবিট্যাক্সিতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কাইল্যা পলাশের দলবদল বেবিট্যাক্সি ঘেরাও করে ব্রাশফায়ার করে হত্যা নিশ্চিত করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

যেভাবে গ্রেপ্তার

যুবদল নেতা মিজান হত্যার পর সরকারের উচ্চমহলে তোলপাড় হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে হত্যাকারী যেই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর পুলিশ পলাশকে ধরতে অন্তত ১২ বার অভিযান চালায়। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০০২ সালের অক্টোবরে পুলিশের একটি টিম এক রাতে হাজির হয় কুমিল্লার বার্ডে। পুলিশের কাছে খবর ছিল পলাশ বার্ডের ভেতর কোনো একটা রেস্ট হাউসে আত্মগোপন করে আছেন। ওই সময় বার্ডের ভেতর অভিযান চালানো দুঃসাধ্য ছিল। এ কারণে পুলিশ পাশেই কুমিল্লা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের সহায়তা নেয়। পরে মিলিটারি পুলিশ পলাশকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

এমই

ঢাকা মহানগর ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সিরাজুল, সম্পাদক ফারুক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শুদ্ধি অভিযান

শাহবাগে আকস্মিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ৯ ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ডাস্টবিন বিতরণ

রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি

রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ‘কাইল্লা পলাশ’

রাজধানীতে পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত

ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার, ডিএনসির জালে ‘গডফাদার’ বাবু

এমপিও ও বেতন ছাড়ের দাবিতে অনশনে অসুস্থ ইবতেদায়ি শিক্ষকরা

নাগরিক সেবার অবহেলায় চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক