হোম > রাজধানী > ঢাকা দক্ষিণ

২৯ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প, ঝুলে আছে ১৩ হাজার ফ্ল্যাট

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

ফাঁকা পড়ে আছে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন এলাকা। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আমার দেশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের বয়স এখন ২৯ বছর। কয়েক দফা সময় ও ব্যয় বাড়ানোর পরও পুরোপুরি শেষ হয়নি এর উন্নয়নকাজ।

প্রকল্পের প্রায় ১৬০ একর জমিতে ১৩ হাজার ৭২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) উদ্যোগও বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি এ-বিষয়ক চুক্তি বাতিলের বিষয়টি সামনে আসায় ওই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮১.১১ একর জমির ওপর ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০০১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রকল্প এলাকায় আবাসিক ও অন্যান্য কাজে মোট ১,৭৭৪টি প্লট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৭৫২টি প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২২টি প্লট জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়। ২০১১ সালে ভূমি ভরাটের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং সার্বিক উন্নয়নকাজের প্রায় ৪৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল। ওই সময় পুরোনো আবেদনকারীদের মধ্যে ৫২৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পরে ভূমি উন্নয়ন, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হলেও বরাদ্দ দেওয়া প্লটের কতটি বাস্তবে হস্তান্তর হয়েছে এবং কতটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার সবশেষ পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে ঝিলমিল আবাসিক এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪,০৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে রাস্তা, ড্রেনেজ, ভূমি উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও প্রকল্পের সব কাজ শেষ হয়নি।

রাজউকের তথ্যানুযায়ী, ঝিলমিল প্রকল্পে আড়াই কাঠার ২৯৭টি, তিন কাঠার ১,০৮০টি এবং পাঁচ কাঠার ৩৯৭টি প্লট রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ৩৬টি প্লটের মধ্যে ১৫টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২১টি বাণিজ্যিক প্লটের বরাদ্দ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

আটকে আছে ১৩ হাজার ফ্ল্যাটের উদ্যোগ

ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে শুধু প্লট নয়, বড় আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংসের সঙ্গে পিপিপি চুক্তি করে রাজউক।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬০ একর জমিতে ১৩ হাজার ৭২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে চুক্তির পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমানভাবে নির্মাণকাজ এগোয়নি। কয়েক বছর ধরে নানা আলোচনা ও উদ্যোগ চললেও বড় আকারের নির্মাণকাজ বাস্তবে শুরু হয়নি।

সবশেষ বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষের আবাসনের প্রত্যাশা জাগানো এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ময়লার ভাগাড়, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

বর্তমানে ঝিলমিল এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল, থানা ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ চলমান। তবে রাজউকের নিয়মিত তদারকির অভাবে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কের বেশকিছু অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালেও ঝিলমিল এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চলমান রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির সবশেষ বাস্তব অগ্রগতি কত শতাংশ, এ পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত টাকা অব্যয়িত রয়েছে এবং কোন কোন কাজ এখনো অসম্পূর্ণ—এসব তথ্য প্রকল্প অফিস থেকে পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে নির্মাণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয় বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট মালিকদের। ফলে প্রায় তিন দশকেও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ভুক্তভোগী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

রাজউকের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের পাশেই দৈনিক সমাচারের প্রধান কার্যালয়। সমাচার সম্পাদক আবু তালেব জানান, ঝিলমিল আবাসনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা এখনো প্লট পাননি। আবার অনেকে মারা গেছেন কিন্তু স্বপ্নের ঠিকানা দেখে যেতে পারেননি।

তিনি বলেন, রাজউক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি হাউজিং কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে বেসরকারি কোম্পানিগুলো দ্রুত এগিয়ে গেলেও রাজউক ২৯ বছরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেনি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় মাঝেমধ্যেই ঝিলমিল প্রকল্পে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

ঝিলমিল আবাসন পকল্পে প্লট বরাদ্দ পাওয়া শেখ আ. ছালাম জানান, তিনি ঝিলমিল প্রকল্পে ভবন নির্মাণ করেও কাঙ্ক্ষিত আবাসিক পরিবেশ পাননি। নিরাপত্তাহীনতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা না থাকায় ভবন ভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাজী তাজদীর আহমেদ জানান, এখানে তার বাবার সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি ছিল। রাজউকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পাঁচ কাঠার প্লট পাওয়ার কথা ছিল। রাজউক বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও দেয়। কিন্তু পরে ২০১০ সালে আরেক চিঠিতে ক্ষতিপূরণের প্লট পাঁচ কাঠার পরিবর্তে আড়াই কাঠা নির্ধারণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝিলমিলের এক বরাদ্দগ্রহীতা আমার দেশকে বলেন, পুরো টাকা পরিশোধ করার পর লিজ দলিল সম্পন্ন করতে রাজউকে দুই-তিন মাস পর্যন্ত ঘুরতে হয়েছে। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে বারবার অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং বাড়তি টাকার বিনিময়ে দলিল করতে হয়েছে। এখনো ভবন তৈরির পারমিশন পাননি।

রাজউকের প্রকল্প পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বিপ্লব আমার দেশকে জানান, ঝিলমিল প্রকল্পের ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে অভ্যন্তরীণ সড়কের কাজও হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের ২ নম্বর সেক্টরে ছয়তলা স্কুল ও কলেজ ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। একই সেক্টরে প্রায় ০.৭৪ একর জমিতে চারতলা মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের কাজও শুরু হবে। থানা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ড্রেনেজ লাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চলছে। কবরস্থানের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে।

দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশে শিক্ষকরা হেনস্তা হচ্ছেন: ঢাবির সাবেক উপাচার্য

বুড়িগঙ্গায় ভাসমান হোটেল, দখল-দূষণের শঙ্কা

হোস্টেল মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর

আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীতে শনিবার জামায়াতের বিক্ষোভ

সাংবাদিকদের ওপর হামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি পাঁচ মাসেও

৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় সভা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি: ডিএসসিসি প্রশাসক

রাজধানীর তুরাগে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু

পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান