রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে মাহিন ইসলাম (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মাহিনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত একজন শিশুকে হেফাজতে নেয় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। সোমবার রাতে ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯.৩০ টায় কাজলারপাড় স্কুল গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ টায় মাহিন বাবার দোকানের কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বন্ধু শাওন, রাব্বিসহ আরও কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় স্কুল গলিতে ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনার জন্য সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তাকে না পেয়ে ফেরার পথে রাত ৯:৩০ টায় কাজলারপাড় স্কুল গলিতে মাজেদ মেডিসিন কর্নারের সামনে পাকা রাস্তায় ৩ জন কিশোরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। মাহিন পথরোধের কারণ জিজ্ঞাসা করলে একজন কিশোর বলে উঠে, “তুই জানি ঐ দিন কী কইছিলি?” এরপরই তারা মাহিনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের একজন কোমর থেকে সুইচ গিয়ার (চাকু) বের করে মাহিনের বাম পায়ের হাঁটুর উপরে রানে ২টি এবং ডান পায়ের হাঁটুর উপরে রানে ১টি গভীর কাটা জখম করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মাহিনকে তার বন্ধুরা রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে আরো জানা যায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত একজন শিশুকে চিহ্নিত করে যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ। পরবর্তীতে সোমবার ভোর আনুমানিক ৪:৩০ টায় কাজলারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত শিশুটির খালার বাসা থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এ সময় তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার (চাকু) উদ্ধার করা হয়।