শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরি বা ক্যারিয়ারমুখী করে গড়ে তোলা নয়, বরং চরিত্রবান, সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ও বিশিষ্ট মোটিভেশনাল স্পিকার রফিকুজ্জামান।
তিনি বলেন, শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত বা ভালো মানুষ হয়ে ওঠে না। সমাজে দুর্নীতি ও অনৈতিকতার মতো বিভিন্ন সমস্যার পেছনে শিক্ষিত মানুষের ভূমিকাও রয়েছে। তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরির বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার ঢাকার আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ক্যারিয়ারবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘হেলো ফিউচার’-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি ফলপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন রফিকুজ্জামান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রফিকুজ্জামান বলেন, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত সন্তানদের বড় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য উৎসাহিত করে। সবাই চায় সন্তান জীবনে ভালো অবস্থানে পৌঁছাক। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সে যেন একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, “মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্যও কাজ করবে—এমন একজন মানুষ হিসেবে বের হবে, যে সমাজে অর্থবহ পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারবে। এই লক্ষ্য নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাজ করে যাচ্ছে।”
ক্যারিয়ার গঠনে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রফিকুজ্জামান বলেন, শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলেই ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যায় না। মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি এবং কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, “তুমি অনেককে চিনবে, অনেক মানুষ তোমাকে চিনবে—এভাবেই তোমার নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
শিক্ষার্থীদের সততা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “তোমার জ্ঞান আছে, দক্ষতা আছে, অভিজ্ঞতা আছে; কিন্তু সততা ও দায়িত্ববোধ নেই—তাহলে তুমি হয়তো নিজের জন্য সফল হতে পারবে, কিন্তু সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারবে না।”
চরিত্র গঠনে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরে রফিকুজ্জামান বলেন, চরিত্র গঠনের প্রথম দায়িত্ব পরিবারের। এরপর বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে একজন মানুষের মূল্যবোধ ও আচরণ গড়ে ওঠে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
‘শুধু বড় হওয়ার শিক্ষা নয়, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে’
রফিকুজ্জামান প্রশ্ন রাখেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি শুধু বড় হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছে, নাকি ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিচ্ছে?”
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বড় ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট দিলেও প্রকৃত অর্থে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে রফিকুজ্জামান বলেন, বিভাগের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমে কাজ করছেন। এ ছাড়া অনেকে সরকারি চাকরি, এনজিও, গবেষণা ও ডিজিটাল মিডিয়াতেও ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।
অনুষ্ঠানে ভর্তি বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন আকরান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল শেখ মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, আশুলিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম ফিরোজী, আশুলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রভাষক মিলন শেখ ও আবদুল মতিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি ফলপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।