বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই।
মঙ্গলবার সরকারের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টে রিট আবেদনকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে হতে যাওয়া ভাইভায় অংশ নিতে পারবেন। এতে আর আইনি বাধা থাকবে না।’
তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের অনেক পদ শূন্য থাকায় তা পূরণের লক্ষ্যে জনবল কাঠামো সংশোধন করে অভিজ্ঞতার শর্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান এবং সরাসরি নিয়োগের পৃথক ব্যবস্থা ছিল, যা পরে একীভূত করে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়।
এই শর্ত চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে ১২ এবং পরে আরও আবেদনকারী যুক্ত হয়ে মোট ৪৬ শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার পরিপত্র বাতিল করেন আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন।
রিট আবেদনকারীদের জন্য পদ সংরক্ষণের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই পদগুলো এখনই তাদের দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। হাইকোর্টের রায় সঠিক ছিল কি না, আপিল বিভাগে মূল শুনানিতে সেটি নির্ধারণ হবে।’
তিনি জানান, আপিল বিভাগে মূল মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সরকার সংরক্ষিত ৪৬ পদ বাদে বাকি পদগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিতে পারবে।
নথি অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চের সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তিন অধিদপ্তরের অধীনে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১৫১টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১১২টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ রয়েছে। এর আগে ২৯ জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৩ হাজার ৫৫৯টি।
নিয়োগের সময় শূন্যপদের সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আজকের আদেশের ফলে মাধ্যমিক স্তরে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পথ সুগম হলো।’