ঢাকা বার নির্বাচন:
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলহাজ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেছেন, রাষ্ট্রকর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ভোটদানে বিরত থাকা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা বার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে কমিশন কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যে হারে ভোট কাস্টিং হয়েছে, সে তুলনায় এ বছরের ভোট মোটেও কম নয়। এরপরেও অপেক্ষাকৃত আরও বেশি হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আইনজীবীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে এমনটি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট প্রধান দুটি দলে বা গ্রুপে বিভক্ত। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ, যাদের দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। ওই গ্রুপটির টপ লিডারসহ অ্যাকটিভিস্টরা ভোটদানে বিরত ছিল। এটি একটি কারণ। এছাড়াও দ্বিতীয় কারণ—গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ছিল। সার্বিক কারণে ভোট না হওয়ার মতো যে আশঙ্কা ছিল, সে কারণে হয়তো ভোটার উপস্থিতি একটু কম ছিল। তবুও দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি কম হওয়ায় ভালো ভোটার উপস্থিতি ছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও অত্যন্ত সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনভাবে সবাই নিজের ভোট দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা হয়নি।
গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ। তবে মোট ভোটারের ৬৬ শতাংশ আইনজীবী এবার ভোট দেননি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এবারের নির্বাচনে সম্পাদকীয় পদসমূহে ১৩ জন এবং কার্যকরী সদস্য পদে ১০ জনসহ মোট ২৩টি পদে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম খানের নেতৃত্বে নীল প্যানেল এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সভাপতি এস. এম. কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে সবুজ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া সভাপতি পদে মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও বলাই চন্দ্র দেবসহ ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ব্যাপারে উভয় দলই আশাবাদী। এদিকে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
এসআর