মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে ঘরে ঢুকে শ্যামল বেপারী নামে এক প্রবাসীকে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে আরো আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শ্যাম সুন্দর এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. শাহাদত বেপারী, মো. ইব্রাহিম বেপারী ও মো. জাহাঙ্গীর বেপারী। অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. মনির চৌকিদার, মো. হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, মো. হাবিব বেপারী, মো. আশরাফুল খান, মো. হুমায়ূন দেওয়ান, মো. এমদাদ হালনার ওরফে ইমরান, মো. আইয়ূব খাঁ ও মো. লিটন বেপারী।
এ রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ইব্রাহিম বেপারী এবং যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া লিটন বেপারী, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, হাবিব বেপারী পলাতক। রায়ের আগে অপর আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বিল্লাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আশা করি দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে।
এদিকে, রায় ঘোষণা শুনতে মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে আদালতে আসেন নিহতের তিন বোন, চার ভাই ও চাচা। তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। নিহতের বোন মমতাজ আলো বলেন, মামলাটির রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়। তাহলে আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৪ জুন ভিকটিম শ্যামল বেপারী (৩৮) প্রতিদিনের মতো মুন্সীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব রাখি সাকিনস্থ নিজের বাড়িতে একা ঘুমিয়ে পড়েন। ভিকটিম ঘুমিয়ে পড়লে রাত ১টার দিকে আসামিরা ঘরের দরজা খোলার জন্য তাকে ডাক দেন।
আসামিদের কথা শুনে শ্যামল বেপারী ঘরের দরজা খুলে দেন। তখন আসামিরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত ও দুই পায়ে এবং মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় আসামিদের গুলির শব্দ পেয়ে বাড়ির আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা ফাঁকা গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যান। ওই ঘটনার নিহতের ভাই মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৬) মুন্সিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক লিপন সরকার ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এছাড়া মহিউদ্দিন ব্যাপারী শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে। মহিউদ্দিন ব্যাপারীর মামলাটি মুন্সিগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার তারিখ ধার্য করেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।