২০২৪ সালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকা থেকে তাওহীদ ইসলাম নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা অভিযোগ করা মামলায় আসামি মো. মকবুল হোসেন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড দণ্ডিত করা হয়েছে।
এছাড়াও, অপহরণের ঘটনায় আরেক ধারায় আসামি আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রায়ে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মকবুল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার লাখিরচর এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা মোসা. তাসলিমা আক্তার, বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে। রায়ে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা। মৃত্যুদণ্ড হলে তাস আত্মাশান্তি পাবে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারটি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন আব্দুল্লাহপুর এলাকার রসুলপুর জামিআ ইসলামিয়া (মাদরাসা) ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে পড়ালেখা করতো ১০ বছরের শিশু মো. তাওহীদ ইসলাম। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫ টায় মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রাত সাড়ে ৮ টায় ক্লাস শেষে মামার দোকানে যায়। মামাকে না পেয়ে একাই বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়। পথিমধ্য আসামি মো. মকবুল হোসেন তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চায়। পরের দিন সকাল সাড়ে ১০ টায় আসামি পছন্দ মতো জায়গায় মুক্তিপণ রেখে আসেন ভুক্তভোগীর মামা। টাকা পেয়েও আসামি শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। পরবর্তীতে পরিবারটি র্যাবের কাছে অভিযোগ দেন। র্যাব অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামির দেওয়া তথ্য মতে সেফটিক ট্যাংকি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের মা মোসা. তাসলিমা আক্তার বেগম ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
গত বছরের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত শেষ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এ কে এম সাইদুজ্জামান মকবুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে আসামির বিরুদ্ধে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।