জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এছাড়া ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওয়া টাকা জুলাই/আগস্ট ২০২৪ সময়কালে শহীদ ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যকোন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলা প্রথমে ৫/২০২৫ মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৮ জুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়। ওই দিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। যুক্তিতর্ক শুরু ৪ আগস্ট এবং শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।