ভারতে পলাতক স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের অতি উৎসাহী কর্মকর্তা বলে পরিচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ৩৪১টি হিসাবে প্রায় ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা এবং ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধানে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৭ টাকার সম্পদ পাওয়ারও তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি। বিপ্লব কুমারকে এ কারণে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। দুদকের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে থাকার সময় ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস আড়াল করতে বিপ্লব কুমার নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন হিসাব ব্যবহার করেছেন। তার এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ২১টি ব্যাংকে ৩২৫টি, দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩টি এবং সাতটি ব্রোকারেজ হাউজে ১৩টি হিসাব পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে হিসাবের সংখ্যা ৩৪১টি।সূত্র জানায়, এসব হিসাবের মাধ্যমে ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা এবং ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পত্তি কেনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি এর প্রেক্ষিতে বিপ্লব কুমারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওয়ার সুপারিশ করেন।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর গাঢাকা দেন বিপ্লব কুমার সরকার। পরে জানা যায়, তিনি ভারতের কলকাতায় পালিয়ে গেছেন। কলকাতায় তার একাধিক স্বজন বসবাস করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে ২০১১ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে হরতাল চলাকালীন সময় পিটিয়ে আহত করার মধ্যে দিয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। এছাড়াও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন করার অভিযোগ আছে।