সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ২০২৬-২৭-এর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে তিনজন, সহসভাপতি পদে চারজন, সম্পাদক পদে সাতজন, কোষাধ্যক্ষ পদে দুজন, সহসম্পাদক পদে পাঁচজন এবং সদস্য পদে ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী ইসি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই এবার মূলত দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি পদে প্রার্থী রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাতেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে সম্পাদক পদে প্রার্থী রয়েছেন মোহাম্মদ আলী। এছাড়া এই প্যানেল থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাকসুদ উল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ।
এবারের নির্বাচনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ল ইয়ার্স কাউন্সিল তাদের প্যানেলে সহসভাপতি পদে মঈনুদ্দিন ফারুকী ও আব্দুল হক, সম্পাদক পদে জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী রেজাউল করিম খন্দকার, সহসম্পাদক পদে তরিকুল ইসলাম ও এবি পার্টির ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাহাঙ্গীর আলমসহ সব পদে প্রাথী দিয়েছে ।
এবার এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সম্পাদক প্রার্থী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু শেষ সময়ে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটি একতরফা, লোক দেখানো, পাতানো নির্বাচনের প্রতিবাদে আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ২০২৬-২০২৭ সম্পাদক পদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচনকে দেশের বিচারিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হয়। প্রতি বছর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক মেরূকরণ সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, এ মাসের ১৩ ও ১৪ মে আইনজীবী সমিতির এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।