ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরো ৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন, মো. আপন, জিহাদ, ইমরান হোসেন, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, গোলাম রাব্বি, বিল্লাল এবং দেলোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে প্রথম ৬ জনকে পাঁচদিন এবং বাকি ২ জনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে পৃথক দুই আবেদনে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির আল আহসান। আবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর স্বামীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তের লক্ষ্যে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের আটোগ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটো রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্ক হয়। থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হামলা চালায়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া তারা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশবক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরি করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা জরেন নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন। এর আগে গতকাল সোমবার এই মামলার প্রধান আসামি জহুরুলকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।