ফেসবুকে পরিচয় সূত্রে বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুর সাথে দেখা করতে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় আসেন আমীর হোসেন নামে ২৫ বছরের এক যুবক। দেখা করার পর কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয় তাকে। ঘুমন্ত অবস্থায় আটার বস্তার সঙ্গে পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় আমীর হোসেনকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ফেসবুক বন্ধুসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, তারেক ওরফে তারেক আহম্মেদ ও হৃদয় আলী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় রাসেল সরদারকে।
রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা দেন।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তিনজনকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপহরণের ঘটনায় তিনজনকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। তবে তাদের শাস্তিগুলো একসঙ্গে চলবে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। অপর আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার আশকোনা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আমীর হোসেন। নিখোঁজের পর কয়েক মাস বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। পরের বছরের ১৩ এপ্রিল তার বড় ভাই বিল্লাল হোসেন দক্ষিণখান থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আমীর হোসেনের বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ, ভুক্তভোগী আমীরের সঙ্গে আসামি তারেকের ফেসবুকে পরিচয় হয়। ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী উত্তরা আসার কথা তারেককে জানান। বিকালের দিকে তারেক গাজীপুরের চৌরাস্তায় দেখা করে এবং মাওনা চৌরাস্তায় গিয়ে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করেন। খাওয়া শেষে সেভেন আপের সঙ্গে ১ পাতা ৫ এমজির বেজোপামের ১০টি ঘুমের ওষুধ মেশান। রিক্সাযোগে বাসায় যেতে যেতে সেটা ভুক্তভোগীকে খাওয়ান। বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে। পরবর্তীতে আমীর হোসেনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়ার কৌশল নেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার টাকা না দেওয়ায় ৫০ কেজি ওজনের সাদা আটার বস্তায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।