চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তি সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রায় হয়। এসময় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে দ্বিমত পোষণ করেছেন কনিষ্ঠ বিচারপতি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড়, আধুনিক ও লাভজনক টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল। ২০০৭ সালে নির্মিত হলেও টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যায় ২০১৫ সালে। আড়াই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এই টার্মিনাল বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। বন্দরের আয়ের বড় অংশ আসে এই টার্মিনাল থেকে।
পতিত সরকারের আমলে এনসিটি বিদেশিদের দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বন্দরের শ্রমিক কর্মচারী, বন্দর ব্যবহারকারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের আন্দোলন ও বিরোধিতার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছিলো।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলে আসছেন, সম্পূর্ণ রেডি এ টার্মিনাল বিদেমি বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। কৌশলগত ভাবে এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ও জাতীয় স্বার্থ জড়িত।
গত ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। এরপর চুক্তি প্রক্রিয়ার স্থিতাবস্থা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করে রিট আবেদনকারীর পক্ষ। এ আবেদনের ওপর রুল শুনানি শেষে গত ১৯ নভেম্বর চুক্তির সব কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।