হোম > আইন-আদালত

ধরাছোঁয়ার বাইরে হাসিনার ফ্যাসিবাদী বিচারকরা

এম এ নোমান

দেড় দশক ধরে দেশে খুন, গুম, হামলা, মামলা, দমন, পীড়ন ও লুটপাটের মাধ্যমে নাগরিকদের মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার হরণে পলাতক শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম সহযোগী বিচারকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর জনপ্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহু কর্মকর্তা জবাবদিহিতার আওতায় এলেও দায়ী বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পুলিশ প্রশাসনসহ বেসামরিক প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। পাশাপাশি হাসিনার ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ হিসেবে চিহ্নিত বিচারপতি ও বিচারকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও জোরালো দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যেও বিচারকদের ‘অঘোষিত দায়মুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয়তবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারাসহ আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সে সময়ে গুমের শিকার হন ৭০০ জন। বিভিন্ন মামলায় ৬০ লাখের বেশি লোক গায়েবি মামলার আসামি হন। কথা বলার স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার স্বাধীন ও মৌলিক অধিকারগুলো হরণের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের নিকৃষ্টতম ইতিহাস রচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে। এসব অবিচারের পেছনের মূল কারিগর আদালতের বিচারকরা ছিলেন বলে দাবি আইনজীবী নেতাদের। তারা জানান, রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মধ্যেও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রহসনের বিচারে সাজা দিয়ে নিরপরাধ হাজারো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর জীবন বিপন্ন করেন বিচারকরাই।

আইনজীবীদের দাবি, বর্তমানে অধস্তন আদালতগুলোতে নিযুক্ত দুই হাজার ১৮৫ বিচারকের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে নিয়োগ পেয়েছেন এক হাজার ৯৪১ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময় তারা বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের শাস্তি দিয়েছেন। এখন আবার তারাই গণহত্যার দায়ে কারাবন্দি অপরাধীদের জামিন দিতে ব্যাকুল হয়ে আছেন।

বিচার বিভাগের কঠোর সমালোচনা করেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। তারা জানান, উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে দেশের জেলা ও মহানগর আদালতের বিচারকদের অনেকেই প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কেউ কেউ নিজেদের ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ বলেও গর্ব করেন। বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা হাসিনাবিরোধী আন্দোলন দমাতে আদালতই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন আসামিকে আটকের পর আইন মেনেই পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করে। অথচ আদালত তাদের বছরের পর বছর কারাবন্দি করে রেখেছে। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বিচার বিভাগের বলেও দাবি তাদের।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিচারকদের হাতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশেনের এক কর্মকর্তা জানান, সে সময় বিচারকরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর, জামিন না দেওয়া ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পথে ঠেলে দিয়েছেন। বিচারিক জুরিসডিকশনের বাইরে গিয়ে গভীর রাতে, লোডশেডিংয়ের সময়ও এজলাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে সাক্ষী হাজির করার জন্য পুলিশকে বাধ্য করেন বিচারকরা।

পুলিশ ও জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের দুঃসময়ে আমাদের বিচার বিভাগ ন্যায়বিচারের ধারা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। হয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন, নয়তো নতজানু অবস্থান নিয়েছিলেন। অভিযুক্ত বিচারকদের শাস্তি হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানও। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই হাসিনার ফ্যাসিজমের পৃষ্ঠপোষক বিচারকদের শাস্তি হওয়া জরুরি।’

আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক হওয়া আসামিকেও বেআইনিভাবে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন বিচারকরা। খাসকামরায় রিমান্ড ফেরত আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অভিযোগ অস্বীকার করার পর বিচারকরা ‘পিটিয়ে হাড় ভেঙে’ নিয়ে আসার জন্য পুনরায় রিমান্ডে পাঠান। বিচারকদের বিরুদ্ধে এমন শত শত অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে পুরস্কৃত পাঁচ বিচারপতি

দেশের বিচার ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত দুই মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তবে অতি তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে দায়ের হওয়া মামলা দুটি পাঁচ বিচারপতির জীবনের বাঁক পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে বলে অভিমত মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তাদের মতে, খালেদা জিয়াকে সাজা দিলে পুরস্কার পাবেন, এমন প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এ মামলার কার্যক্রমে অংশ নেন। মামলাগুলো জামিনযোগ্য হলেও বিচারপতিরা বারবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে বন্দি রাখার শেখ হাসিনার ইচ্ছা পূরণে ভূমিকা রাখেন। তাদের অভিযোগ, এ দুটি মামলাই খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করে অভাবনীয় পুরস্কারে ভূষিত হওয়া পাঁচজন হলেনÑবিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (ননী), বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার, বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি মো. আকতারুজ্জামান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মহানগর বিশেষ দায়রা জজ আদালত ১২ বছরের সাজা দেয়। হাইকোর্ট এ সাজার মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করে দেয়। পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসনের নিকৃষ্টতর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আমার দেশকে জানান, হাসিনার সরকার পছন্দের লোকদের বিচারকের আসনে বসিয়ে ও পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে এ ফরমায়েশি রায় আদায় করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে পাঁচ বিচারপতিই অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন করে খালেদা জিয়ার মামলাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করেছেন। বিচারের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করায় আলোচিত এ পাঁচ বিচারপতিকে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী।

তারেক-জুবাইদাকে সাজা দিতে টানা শুনানি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে দুদকের মামলায় টানা সাক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট সাজা দেন তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান। রায়ে দুটি ধারায় তারেক রহমানের ৯ বছর কারাদণ্ড ও জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ওই বিচারপতিকে হাইকোর্টের বিচারপতি করার প্রলোভন দেখিয়ে টানা সাক্ষ্য নিয়ে রায় আদায় করেন বলে দাবি করেন তারেক রহমানের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ।

অ্যাডভোকেট মেজবাহ বলেন, শুধু তারেক রহমান কিংবা জুবাইদা রহমানকেই নয়, বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় টানা শুনানি করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত সাক্ষী গ্রহণ করে বিচারকরা শাস্তি নিশ্চিত করে রায় লেখেন।

আইনজীবীরা জানান, ‘আমি-ডামি নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন সিএমএম রেজাউল করীমের কাছে ১৫৮টি মামলার তালিকা দিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ৭৯টি মামলায় দ্রুত শুনানি শেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এক হাজার ২৪৯ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল আমার দেশকে বলেন, এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য শেখ হাসিনার নির্দেশে এ মিথ্যা মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। যে বিচারকই এ মামলার নথিতে হাত দিয়েছেন, তিনিই সরকারের কাছ থেকে অবৈধ ও ‘আনডিউ’ সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, শুনানিতে আমরা মামলার মেরিট তুলে ধরে আদালতে প্রকাশ্যেই এসব কথা বলেছি।

রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে রায় লেখা হয়

আইনজীবীরা জানান, রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা বিএনপির একটি ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন ইকবাল হোসেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও প্রোস্টেটের রোগে আক্রান্ত ৭১ বছর বয়সি ইকবালের বিরুদ্ধে ৫২টি মামলা ছিল। দুটি মামলায় ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত এবং আরেকটি মামলার শুনানি বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুনানি চলে। ওইদিন আদালত দুই ধাপে ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ওই সময় এমন সাতটি বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত যে, এগুলোর কার্যক্রম রাতেও হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবাহ বলেন, আমার দুই দশকের ওকালতি জীবনে এমন রায় ও বিচার কার্যক্রম কখনো দেখিনি, যেটা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে দেখলাম।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অনেক রাত পর্যন্ত মামলার শুনানি হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমাকেও আদালতে আসামিদের পক্ষে থাকতে হয়েছে। বিএনপি নেতাদের সাত শতাধিক মামলায় তিনি আইনজীবী ছিলেন বলে আমার দেশকে জানান।

আদালতের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবরে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৪-এর বিচারক। ওইদিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ রাত ৮টা ও অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

রফিকুল আলম মজনুর আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, পল্টন থানা পুলিশের দায়ের করা এক মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৪-এর বিচারক মঈনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ওইদিন বিকাল ৫টার পর অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর এসিএমএম বিচারক সুলতান সোহাগের আদালতে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আদিলের আইনজীবী মামলার নতুন তারিখ চেয়ে আবেদন করলে তা খারিজ করে রাত ৮টা পর্যন্ত আরো পাঁচ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আরো কয়েকজনকে একটি মামলায় রাত ৮টা পর্যন্ত শুনানিতে চার বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৪১ হাজার ৬৩৬টি মামলা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে প্রতি বছর ১০ হাজার (প্রতিদিন ২৭টি মামলা হয়েছে)। শুধু ঢাকা বিভাগেই ওই সময়ের মধ্যে ছয় লাখ ১৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার ৭৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫০টি মামলার আসামি ছিলেন হাবিবুন নবী খান সোহেল। তিন শতাধিক মামলার আসামি ছিলেন অসংখ্য নেতা। তাদের অনেককে রাত ৮টা, কখনো কখনো রাত ৯টা পর্যন্ত আদালতের কাঠগড়ায় থাকতে হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, রাতে হঠাৎ হঠাৎ লোডশেডিং বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিচারক তার সহকারীকে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিয়ে আসতে বলেছেন। কখনো কখনো মোমবাতির আলোতে লেখা হয়েছে শাস্তির আদেশ।

অধস্তন আদালতে আ.লীগ আমলের ১৯৪১ বিচারক

আইন মন্ত্রণালয় ও বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখন বিচারকের সংখ্যা দুই হাজার ১৮৫ জন। এদের মধ্যে এক হাজার ৮৪১ জনই নিয়োগ পেয়েছেন বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে। এ সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরীক্ষায় দলীয় লোককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভাইভা বোর্ডে দলীয় লোককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। মাদরাসা ছাত্র হওয়ার কারণে বাদ দেওয়া হয় অনেককে।

বাংলাদেশ সচিবালয় ও জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্যমতে, বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের আমলে ১৪টি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মোট এক হাজার ৮৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিচারকদের মধ্যে ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ দেখতে চান না আইনমন্ত্রী

জুডিশিয়ারিকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে যেতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ দেশে আর শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ চাই না। আমরা চাই না কোনো বিচারকের নেতিবাচক আচরণের কারণে গোটা জুডিশিয়ারির ওপর মানুষের ক্ষোভ ফিরে আসুক।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকের চাকরি চলে গেছে ও অনেকে জেলে গেছেন। যারা সন্ধ্যার পর রাত ১২টা-১টায় মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধীপক্ষকে দমনপীড়নের জন্য বিচারকার্য সম্পাদন করেছেন, আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তা দেখতে চায় জনগণ। এটি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, কারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কারণ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাদের কাছে আমাদের জবাবদিহিতার বিষয় আছে।’

এমবি

ট্রাইব্যুনালে ২২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম-খুনের ফের অভিযোগ বিএনপির

হানিফ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ

ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৫ জুলাই

আয়নাঘরে গুম করে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়

শাকিল ও ফারজানা রুপার জামিন

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না

হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ

‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

সাবেক এমপি হাসানাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন

অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ‎অভিযোগ গঠন শুনানি ২১ জুন