জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধ
জুলাই বিপ্লবে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গতকাল এবং আজ আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরআগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ মামলাটির ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এ মামলার অপর আট আসামি পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মোট ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ এনে গত বছর ১৯ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন একজন।
মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরে ওই ভ্যান থেকে তোলা হয় পুলিশের একটি গাড়িতে। একপর্যায়ে ওই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও অজ্ঞাত একজন শহীদ হন।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেয়। পরে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এবং গত বছর ২১ আগস্ট মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।