দেশ জুড়ে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই রুবেল মিয়া আসামিকে সিএমএম আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগীদের একজন মতিউর। এনবিআরের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিঠানে আস্থাভাজন লোক না হলে তাকে সেখানে বসায়নি তৎকালীন সরকার।
তিনি আরও বলেন, গত কুরবানির ঈদে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কিনেন তার ছেলে। এরপর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে দেশবাসী বিষয়টি জানতে পারে। তার আয়ে উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে তার ও তার স্ত্রী নামে জ্ঞাত আয় বর্হিরভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। তবে আজ তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই মামলায় উদ্ধারকৃত অস্ত্রটির লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ এবং তার কাছে থাকা ২৫টি গুলির মধ্যে একটি গুলি পাওয়া যায়নি। যার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি মতিউর। এই অস্ত্র ও গুলি জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আদালত উভয়পক্ষের কথা শুনে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে মতিউর রহমানের পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, টেস্ট করতে গিয়ে একটি গুলি মিস ফায়ার করা হয়েছে। এটি কোনো অবৈধ অস্ত্র নয়। এটি তার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র।
এসময় তার আইনজীবী জানান মতিউর আদালতের কাছে তার বক্তব্যে বলেন, ছেলের সাথে আমার একটা দূরত্ব ছিল। সে সুযোগ গোয়েন্দা বাহিনীর লোকজন তাকে কাজে লাগায়। এটা প্রকাশ্য যে, এসএসএফ প্রধানের সাথে তার (মতিউর রহমান) শত্রুতার ছিল। এসব কারণেই ছাগল কান্ডে তার ছেলেকে ব্যবহার করে ডিজিএফআই। আমি কোন অপরাধ করিনি। আপনার (আদালত) কাছে আমার অনুরোধ দয়া করে একটি ফ্যামিলিকে ধ্বংস করবেন না।
এর আগে সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মতিউর রহমানের বাসায় যান ডিবির কর্মকর্তারা। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ নিজের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন মতিউর রহমান। তার শয়নকক্ষের আলমারি থেকে একটি অস্ত্র ও ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর বেলাল হোসেন রাজধানীর ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
এদিকে বিকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগের দুদকের মামলায় মতিউর স্ত্রী লায়লা কানিজকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেন বিচারক।
গত ১৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি লায়লার বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। পাশাপাশি ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও রয়েছে।