হাইকোর্টে রুল
বাধ্যতামূলক হলেও ফায়ার লাইসেন্স বিহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি),ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালক ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলেল জবাব দিতে বলা হয়েছে।
একই সাথে, সারা দেশের ফায়ার লাইসেন্সবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী ভবনে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোগী ও সাধারণ জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিট পিটিশনারের করা আবেদন ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের সকল হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স থাকার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অসংখ্য হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স নেই যার ফলে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমাত্রার অগ্নিঝুকিতে আছে। তাই ফায়ার লাইসেন্স বিহীন হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অসংখ্য রোগী ,দর্শনার্থী,ডাক্তার ও সেবকগন চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত অবস্থান করেন যা তাদের জীবনকে অগ্নি দূঘটনার দিকে ঠেলে দেয়। তাই জনস্বার্থে ফায়ার লাইসেন্স বিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে রিট আবেদন দায়ের করেন।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিটকারী আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন উচ্চ আদালত।
সারা দেশের ফায়ার লাইসেন্সবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী ভবনে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক রোগী ও সাধারণ জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের নিমিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনে বলা হয়-
আপনার সদয় দৃষ্টিগোচরের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে মোট ১৮১১৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। যার মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১১,৬১৯টি।, হাসপাতাল/ট্রিনিক ৫ ৯৪৪টি। ব্লাড ব্যাংক ২৫০টি।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হতে 'অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩' অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ ফ্যায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর' থেকে প্রাপ্ত সংযুক্ত তথ্যানুযায়ী, 'সারা দেশে মাত্র ৭,৫৬৫টি প্রতিষ্ঠান ফায়ার লাইসেন্স আছে।
সারা দেশে প্রায় ১০,৫১৮টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। যার একটি বড় অংশ পরিবেশ অনুপযোগী ও অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে জরুরি অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বা অপ্রতুল। যথাযথ প্রবেশ ও বের হওয়ার নিরাপদ পথও নেই। একই ভবনে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনসিসি) অনুযায়ী ন্যূনতম নিরাপত্তা মান রক্ষা করা হচ্ছে না।
ফলে, এসব প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র রোগী ও তাদের স্বজনদের নয়, বরং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ অব্যবস্থাপনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু হতাহতের দৃষ্টান্ত রয়েছে।, যা অগ্রাহ্য করা হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির হতে পারে।