দুর্নীতি মামলায় গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে এনু-রুপনের ভাই শহিদুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভুঁইয়া ও মিরাজুল হক ভূঁইয়া শিপলুসহ সাত জনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৬ মাসুদ পারভেজের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এনু ও রুপনকে ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানাও করেন আদালত। এ মামলার দণ্ডিত অপর আসামিরা হলেন- তুহিন মুন্সি, নবীর হোসেন সিকদার, সাইফুল ইসলাম ও জয় গোপাল সরকার। এছাড়া মামলার ঘটনায় উদ্ধারকৃত ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় এনু, রুপন, শহিদুল, রশিদুল ও সহযোগী নবীর হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ও জয় গোপালও আদালতে হাজির হন। রায়ের পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলার অপর ২ আসামি মেরাজুল ও তুহিন পলাতক থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর র্যাব-৩ পুরাতন ঢাকা সূত্রাপুরের বানিয়াগরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রুপন ভূঁইয়ার শোয়ার ঘরের ভেতর দুটি লোহার সিন্দুক থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলা করে র্যাব। আর স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।
অর্থ পাচার মামলায় ২০২১ সালের ৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এরপর ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১১জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এর আগে এনু ও রুপনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানার অর্থ পাচারের মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর অর্থপাচারের আরও একটি মামলায় দুই ভাইকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।