জুলাই বিপ্লবে রামপুরায় হত্যাকাণ্ড
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসনকে গুলি এবং মায়া ইসলাম ও মো. নাদিমকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, রামপুরা জোনের এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসআই তরিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন ও এএসআই চঞ্চলচন্দ্র সরকারকে ২০ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক রয়েছেন। হাবিব ছাড়া পলাতক অপর আসমিরা হলেন—খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এদিন সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি নিজে স্বীকার করেছেন তিনি গুলি করেছেন। একজন মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে ছিল। তারা সেই অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে গুলি করে। তখন এরা মানুষকে মানুষ মনে করত না। যা ইচ্ছা তাই করত মানুষের সঙ্গে । আমরা আসামিদের অপরাধের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছি।’
গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন প্রথমেই রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
এমবি