উত্তরা পূর্ব থানার একটি মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এর মধ্যেই তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শাহ আলম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পূর্ব থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ কর্মকর্তা থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এএসআই সাজ্জাদ নামে একজন এএসআইকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এর রুম থেকে কৌশলে পালিয়ে যান বলে জানান এই কর্মকর্তা। আসামি থানা হাজতে থাকার কথা থাকলেও, কর্মকর্তার রুমে কি করছিলেন হত্যা মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা, এমন প্রশ্নের জবাব তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।
জানা যাচ্ছে, বুধবার রাতে ডিএমপি পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস এলাকা থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে। সেই গ্রেপ্তার অভিযানে ছিলেন উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন শরীফ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ. জব্বার, কনস্টেবল বিল্লাল ও সোহেল।
পরবর্তী সময় কুষ্টিয়া থেকে বুধবার মধ্যরাতে তাঁকে উত্তরা পূর্ব থানায় এনে হেফাজতে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান।
শাহ আলমের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাঁর স্ত্রী শাপলা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, ‘শাহ আলমের কোনো খোঁজখবর তাঁর কাছে নেই। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাচ্ছেন।’
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন শাহ আলম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার অভিযোগে উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওই থানারই সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। ওসি শাহ আলম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।