জুলাই বিপ্লবে রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।
শুনানিতে এ মামলায় আনা অভিযোগ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি ঘটনার পুরো বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। এসব ভিডিওতে আসামিদের অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। এর মধ্যে আসামি জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন তিনি। পরে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়।
এরপর আবেদন মঞ্জুর করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন—রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৪ জন হলেন—খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
এর আগে, ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও বহু মানুষ আহত হন।
শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআর