রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে ছয় দিন এবং তার গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাসুদুর রহমান। এ আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিতা ও সেলিমের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, তাদের গ্রেপ্তার এবং মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবহৃত উপকরণের উৎস সম্পর্কে তথ্য জানতে মিতা ও সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
এদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি শুনানিতে বলেন, তারা ঘটনার সাথে জড়িত নন। মাহফুজুর রহমান মিতা একজন সাবেক সংসদ সদস্য। সেবামূলক কাজ করেছেন। তিনি অসুস্থ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১০ দিনের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এ মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলা ফেস না করে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। সম্প্রতি ঢাকায় মিছিল, বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক এই সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। দেশের গণতন্ত্র নষ্ট করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। সেখানে তার সম্পৃক্ত পাওয়া যাচ্ছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত মিতাকে ৬ দিন এবং তার গাড়ী চালক সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ এর একটি বাড়ি থেকে মিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার গাড়ী চালক সেলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগে অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালান। ওই ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।