দুই দশক আগে রাজধানীর কাফরুলে বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না পেয়ে সৎমাকে চাপাতি দিয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে মো. শামসুল হক জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজারসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
মঙ্গলবার ঢাকার তেরো নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মো. শামসুল হক জুয়েলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাফরুল থানার দক্ষিণ কাফরুলের ২৩০/এ নম্বর এলাকার একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সালেহা বেগম ছিলেন মামলার বাদী মো. আ. হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শামসুল হক জুয়েল ছিলেন বাদীর প্রথম পক্ষের ছেলে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকার দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৎমা সালেহা বেগমকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন জুয়েল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২০ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে থেকেই বিদেশ যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা দাবি করে আসছিলেন জুয়েল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি বাসায় যান। পরে রাতে তাকে হালুয়া-রুটি খেতে দেন তিনি। রাতে খাবার শেষে সালেহা বেগম তার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে আবারও বিদেশ যাওয়ার টাকার দাবিতে পরিবারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন জুয়েল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে সালেহা বেগমের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন নিহতের মেয়ে সাহানারা আক্তার সুখী ও ছেলে আজিজুল হক ইমন। তারা আদালতে সাক্ষ্যে জানান, মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং জুয়েলকে চাপাতি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখেন।
পরে গুরুতর আহতাবস্থায় সালেহা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় হাইটেক ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে নিহতের স্বামী আ. হক কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।