হোম > আইন-আদালত

সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই বিপ্লবে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাত হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া সাইফুলের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

সাইফুল ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চৌধুরী এবং যুবলীগের সদস্য রনি ভুঁইয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এসপি আসাদুজ্জামান রিফন, অ্যাডিশনাল এসপি আব্দুল্লাহিল কাফি, অ্যাডিশনাল এসপি শাহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান, ইন্সপেক্টর ( অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন আরজু (ডিবি)। সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান। রাজসাক্ষী হিসেবে আশুলিয়া থানার এস আই আফজালুল হক ঘটনার সত্য প্রকাশ করায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন— বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় মামলার রায়। তবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও চানখাঁরপুল মামলার রায় ঘোষণা করে।

আশুলিয়ার মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

পলাতক আসামিরা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ কর্মী রনি ভূইয়া।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ২১ আগস্ট মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন’ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন একজন। মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরে ওই ভ্যান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়। একপর্যায়ে ওই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও অজ্ঞাত একজন শহীদ হন।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলার রাজসাক্ষী খালাস

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হলো ৮ আসামিকে

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার রায় আজ

ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ স্থগিত

বিএসইসির সাবেক কমিশনারসহ ২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাইফুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, জমি জব্দ

মুসাব্বির হত্যা মামলায় ‘শুটার’ রহিম রিমান্ডে

নাহিদের রিট খারিজ, বিএনপির কাইয়ুমের নির্বাচনে বাধা নেই