ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী লিটন
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলায় ২২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন চা দোকানদার সালাউদ্দিন লিটন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে সালাউদ্দিন বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৮ বৎসর। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ি কাজলা ফুটওভার ব্রিজের উত্তর পাশে আমার চা-বিস্কুটের দোকান ছিল। ওইদিন বেলা ১২টার সময় তায়িম, শাহরিয়ার ও রাহাত আমার দোকানে আসে। তারা কথা-বার্তা বলার একপর্যায়ে গুলির শব্দ শুনতে পাই। এরপর যাত্রাবাড়ি থানা থেকে কিছু পুলিশ আসে এবং আমাকে আমার দোকানের শাটার বন্ধ করতে বলেন। আমি আমার দোকানের শাটার বন্ধ করে দিই। আমরা চার জন দোকানের ভিতরে বসা অবস্থায় ছিলাম। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে দোকানের শাটার খুলতে বলে। আমি প্রথমে শাটার খুলি নাই। তখন পুলিশরা বাহির থেকে বলতে থাকে, ‘শাটার খুলবা নাকি গুলি করবো।’ তখন আমি সবাইকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলি এবং দোকানের শাটার খুলে দেই। আমরা চারজনই হাত উঁচু করে দোকানে দাড়িয়ে থাকি। পুলিশ ভিতরে ঢুকে আমাকে থাপ্পড় দেয় এবং রাহাতকে টেনে বাহিরে নিয়ে যায়। তারপর তায়িম ও শাহরিয়ারকেও টেনে-হিঁচড়ে বাহির করে নিয়ে যায়। আমাদেরকে তাদের হাতে থাকা রাইফেলের বাট দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
জবানবন্দিতে সাক্ষী আরো বলেন, এরপর দুজন পুলিশ সদস্য আমার দিকে রাইফেল তাক করে রাখে এবং আরো দুজন পুলিশ সদস্য আমাকে বেধড়ক মারতে থাকে। তখন কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমার দোকানে ঢুকে চিপস ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে যায়। একজন আমার দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ২৫ হাজার টাকা ও সিগারেট নিয়ে যায়। এরপর আমাকে দোকানের শাটার বন্ধ করতে বলে। আমি দোকান থেকে বের হয়ে দেখি তায়িম পড়ে আছে; শাহারিয়ার তাকে ওঠানোর চেষ্টা করছে। এরপর আমিসহ শাহারিয়ার তায়িমকে ওঠানোর চেষ্টা করি। এসময় একজন পুলিশ সদস্য আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কী করছো। আমরা বলি, ছেলেটার শরীরে গুলি লেগেছে, ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। পুলিশ সদস্যরা বলে, আমরা ওকে হাসপাতালে পাঠাবো। আমাদেরকে আরো বলে, তোমরা যাবা নাকি গুলি করবো? তখন আমরা চলে যাই।
সাক্ষী সালাউদ্দিন আরো বলেন, এ ঘটনার দুদিন পরে শাহারিয়ার আমাকে ফোন করে তায়িম এর খবর জানি কিনা জিজ্ঞাসা করে। পরে আমাকে জানায়, তায়িম ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে। আমি পরে শুনেছি, শাহারিয়ারও কিছুদিন আগে মারা গেছে। এই আমার জবানবন্দি।