বরিশালের আগৈলঝাড়া ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে দুই জাতীয়তাবাদী নেতাকে তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহর নির্দেশে ক্রসফায়ার দিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছিল বলে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তৎকালীন জিআইজি হুমায়ুন কবির। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানতে পেরে এসপিকে ডেকে ভর্ৎসনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বদলির অনুরোধ করেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ গৃহীত হওয়া বরিশাল রেঞ্জের সাবেক ডিআইজির জবানবন্দিতে এসব তথ্য ওঠে আসে। হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন- আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এমপি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এসপি এহসান উল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দেন হুমায়ুন কবির। বর্তমানে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিতে পারেননি তিনি। ফলে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তার জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে প্রসিকিউশন আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।
জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৫ সালে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী গাড়িতে অজ্ঞাতনামা লোকজন আগুন দিলে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ নিজে তদারকি করে ২ আসামি কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদারকে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে তাদেরকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করে। পরদিন সকালে কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি জানার পর আমি এসপিকে অফিসে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং তাকে অপেশাদার কাজের জন্য ভর্ৎসনা করি।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে অফিসে ডেকে ঘটনার বিষয় জানতে চাই। মনিরুল আমাকে জানায়, দুজন ব্যক্তিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করলেও এসপির নির্দেশে তাদেরকে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। এরপর আমাদেরকে (আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ) পুলিশ সুপার আসামিদের ক্রসফায়ার দিতে বললে, কোনো অফিসার বা ফোর্স রাজি না হয়নি। তখন এসপি অন্য থানার পুলিশ সদস্যদের দিয়ে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডটি ঘটান। এ ঘটনায় আমি ও থানার কেউ জড়িত নই। হত্যাকাণ্ডের পর এসপি থানায় হাজির হয়ে নিজে নির্দেশনা দিয়ে জিডিতে নোট করেন।
জবানবন্দিতে হুমায়ন কবির আরো বলেন, এরপর আমি ঘটনা আমার ঊর্ধ্বতন অফিসারদের জানাই। পরে এই হত্যাকাণ্ডসহ আরো অপেশাদার কাজের জন্য এহাসান উল্লাহর এসিআর বিরূপ মন্তব্যসহ হেডকোয়ার্টারে পাঠাই। তাকে অন্য রেঞ্জে বদলি জন্য অনুরোধ করি। পরে তাকে মাগুড়া জেলায় বদলি করা হয়। এরপর আমি
এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করি। আমি জানতে পারি, এসপি উজিরপুর থানার দুজন এএসআই দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরে এহসান উল্লাহকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতি দিয়ে আবার বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়। কারণ তার খুঁটির জোর ছিল অত্যন্ত শক্ত। তিনি সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর প্রিয়পাত্র ছিলেন। এমপির নির্দেশে আমাদের অগোচরে সে অনেক কাজ করতো।