ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘরে’ গুমের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
আজ সকালে রিফাত জোয়ার্দারকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত গুমের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময়ের আরজি জানানো হলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।
এর আগে, গত ১৯ মে নিলয়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
রিফাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। ধানমন্ডি থানায় হওয়া অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার ভুক্তভোগী মো. মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। এ সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়, যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্ধতিগতভাবে গুম–খুনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে গুমের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দখলে থাকা ঢাকা শহরের একাধিক ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রিফাত নিলয়। এসব ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। পরে সেই অর্থ বেনজীর আহমেদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত সাবেক এই আইজিপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ছিলেন বলে জানা গেছে।
এসআর