ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ক্যাম্পাসে দেয়ালে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি অঙ্কনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘিরে গড়ে উঠা আন্দোলনের ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিকে তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারি পরিচালক বিএম সোহেল রানা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য আনোয়ার হোসেনকে প্রধান, ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূইয়াকে সদস্য সচিব এবং উপসচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- ১) মোছা. রোখছানা বেগমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ইউজিসির সহকারি পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে সকল পক্ষের সাথে কথা বলেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তদন্ত কমিটি শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের কথা বলেন। এছাড়াও শিক্ষক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্য সচিবের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টাও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কমিটির সদস্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১) মোছা. রোখছানা বেগম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্য সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ভেতরে জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গ্রাফিতি আঁকার কারণে ২৯ ডিসেম্বর দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তিমূলক নোটিশ দেওয়া হলে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। নোটিশে বলা হয়, তাঁরা সম্পদের ক্ষতিসংক্রান্ত নীতি অনুসারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চিঠিতে গ্রাফিতি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুছে ফেলার জন্য বলা হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নোটিশ প্রত্যাহার করলেও দুঃখ প্রকাশ করেনি। ১ জানুয়ারি ৫ দফা দাবিতে ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা বছিলা ক্যাম্পাসে আমরণ অনশনে গেলে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের প্রতিনিধি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ এর মধ্যস্থতায় তদন্ত কমিটি গঠনসহ ৬ শর্তে সাময়িক সুরাহা হয়।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী শিবলী সাদিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলাকালীন মিডিয়ার সঙ্গে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। শুধু এতটুকু বলতে পারি- বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আগেই আমাদেরকে ই-মেইলে তদন্ত কমিটির ক্যাম্পাসে আগমনের কথা জানিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক দুপুরে তদন্ত কমিটি শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। আমরা আমাদের দাবির স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ তদন্ত কমিটির কাছে উত্থাপন করেছি।’