ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কটূক্তি এবং তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, এমনকি বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী ও সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলনের অংশ হিসেবে কোনো শিক্ষার্থী নিকাব পরলে তা নিয়ে তাকে অপমান, হেয় বা শ্রেণিকক্ষে বিব্রত করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বা উগ্রপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ গুরুতর।
ছাত্র জমিয়তের নেতারা জানান, ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক সহপাঠীকে সামনে না বসে পেছনে গিয়ে বসতে বলা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ করেন বলেও ওই পোস্টে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি বলেছে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও শিক্ষার অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত। গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে বহিষ্কারের বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ধর্মীয় পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য, অপমান বা হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ছাত্র জমিয়ত বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করতে অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিচয় বা অবস্থান নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।