দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির আবেদন চলছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ২১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই অনলাইন আবেদন গ্রহণ ৫ ডিসেম্বর শেষ হবে। নীতিমালা অনুসারে আগামী শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর এবং ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ সাত বছর হতে হবে। পরবর্তীকালে শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিকৃত ব্যাচের ভিত্তিতেই গণনা করা হবে।
কিন্তু এই নিয়মে দেখা যাচ্ছে—বয়স বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনই করতে পারছে না। বিশেষ করে যাদের জন্ম তারিখ ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে, তারা অনলাইনে আবেদন সাবমিট করতে পারছেন না। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রাজশাহীর শিক্ষক ও অভিভাবক মামুনুর রশীদ আমার দেশকে জানান, তার সন্তানের জন্ম তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। এই তারিখ দিয়ে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে বহু শিক্ষার্থী বাদ পড়ছে। তাহলে তারা পড়বে কোথায়? দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, অনলাইন ভর্তিতে বয়স-সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি অধিদপ্তর জানে এবং দ্রুতই শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিভাবক ঐক্য পরিষদের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় যাদের বয়স বেশি ছিল, মূলত তারাই এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিলতায় পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এসআর