বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘তিন লাল তারকা’ বা লাল তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রায় দুই মাসের মাথায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (ইইউবি) তিন সদস্যের প্রশাসক কমিটি দিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে বিদ্যমান বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) ভেঙে দিয়ে নতুন এ কমিটি দেওয়া হলো।
গত ৫ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০'-এর ৩৫(৭) ধারা অনুযায়ী এই ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ এর চেয়ারম্যান হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম।
সদস্যরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ আল-মামুন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলম।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলিতে বলা হয়েছে-সাময়িকভাবে গঠিত এই প্রশাসক প্যানেল প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পরিচালনা করবেন।
এই বোর্ডের মূল কাজ হবে ইউজিসির সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুততম সময়ে একটি নিয়মিত ‘বোর্ড অব ট্রাস্টিজ’ পুনর্গঠন করা এবং তা চ্যান্সেলরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো। নতুন নিয়মিত ট্রাস্টি বোর্ড চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ামাত্রই এ প্রশাসক প্যানেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
অনিবার্য কারণে এক বছরের মধ্যে যদি ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন সম্ভব না হয়, তবে চ্যান্সেলর এ কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করতে পারবেন।
কমিটিকে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার ইউজিসি চেয়ারম্যান বা তার মনোনীত সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে এবং প্রতি তিন মাস পর পর চ্যান্সেলরের নিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সূত্রমতে, গত মে মাসের মাঝামাঝিতে ইউজিসি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে ৩টি লাল তারকা চিহ্ন যুক্ত করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সে সময় ইউজিসির তদন্তে বেরিয়ে আসে—বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মালিকানা নিয়ে তীব্র কোন্দল ও আদালতে মামলা চলছে, অনুমোদিত আসনের বাইরে অতিরিক্ত অবৈধ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ১২ বছর পার হলেও তারা নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করতে পারেনি।
ইউজিসির সেই লাল তালিকার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরো চরম আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত এই প্রশাসক কমিটি নিয়োগ দেওয়া হলো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।