পর্দা নিয়ে কটূক্তি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের হিজাব ও নারী শিক্ষার্থী নিয়ে কটু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জবি শাখা ছাত্রদল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা পরিচয় গোপন করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। অবশ্য প্রতিবাদের মুখে ক্ষমা চেয়েছেন ছাত্রদল নেতা।
জানা যায়, গত শনিবার রাতে শামসুল আরেফিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাবি শাখা নেত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘সেরের জন্য কয়টা তালি।’ এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে আরেফিন পোস্টটি সম্পাদনা করে লেখেন, ‘নারী ও হিজাবের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা হতে পারে। নারী ও তার ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমার আজন্ম শ্রদ্ধা।’ তবে তার দাবি—বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করে তাকে হিজাববিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে নারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পর্দা শুধু কাপড় নয়—এটি মুসলিম নারীর ধর্মীয় অধিকার। এ নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সময় তারা দুই দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- শামসুল আরেফিনের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পর্দা করে চলা নারীদের নিয়ে কটূক্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা।
এদিকে, মানববন্ধনের কয়েক ঘণ্টা পর জবি শাখা ছাত্রদল এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা পরিচয় গোপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন এবং ঘটনাটিকে ধর্মীয় ইস্যুতে পরিণত করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন ছাত্রের সঙ্গে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে ধর্ম ও পর্দায় আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ একে নারী ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অবমাননা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টির কৌশল বলছেন। তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।
অবশ্য সমালোচনার মুখে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে ক্ষমা চান শামসুল আরেফিন। তিনি লিখেন, কোনো ভণিতা না করে দুঃখ প্রকাশ করার একটিই কারণ, মা-বোন ধারণ ও ধারকের জায়গা আমার অস্তিত্বের আত্মপ্রকাশ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রতিও দুঃখ প্রকাশ করছি। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি মহান আল্লাহর কাছে, যিনি অশেষ রহমত ও মাগফিরাতের আশ্রয়। দুঃখ প্রকাশ করছি যার সঙ্গে আমার তর্ক হয়েছে তার কাছে, উনি আমার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন, যা একজন মহান মুসলমানের কাজ।
শামসুল আরেফিন আরো বলেন, আমার অনভিপ্রেত আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মা-বোনের কাছে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করছি।