স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তিনি বলেছেন, নীতিমালা প্রণয়নের পর এমপিওভুক্তির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এ দাবি বাস্তবায়নে তিনি জাতীয় সংসদে নোটিশ দিয়েছেন বলেও জানান।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইসলাম শিক্ষা বিস্তারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং নৈতিক শিক্ষায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষা ঐক্যফ্রন্ট।
সেমিনারে ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘এ দাবি নিয়ে সরকার কাজ করছে। এমপিও দিতে হলে একটি নীতিমালা লাগে, সেই নীতিমালার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আমরা বলতে পারব যে নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও কেন এমপিও দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, সংসদে গিয়ে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির বিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়ে একটি নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের নোটিশগুলোর ওপর লটারিতে তার নোটিশটি উঠলে তিনি এ বিষয়ে সংসদে কথা বলবেন। এতে অন্য সংসদ সদস্যরাও এই দাবির পক্ষে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংসদের ৭১ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বেও এটি উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন, যাতে মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা সরাসরি দেখা করে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন।
সেমিনারে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধন করা নীতিমালা অনুসারে ১ হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির গেজেট প্রকাশ করা;
২. অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা; এবং
৩. সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার ও সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণ করা।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামি শিক্ষার প্রসারে ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে ১৯৯৪ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য অনুদান চালু করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে বই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শিক্ষকেরা মাদ্রাসা শিক্ষার বৈষম্য দূর করে মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল, পোশাক, জুতা ও ব্যাগের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।