হোম > শিক্ষা

পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী বয়ান দ্রুত বাতিল করার দাবি ইউট্যাবের

ঢাবি সংবাদদাতা

পাঠ্যপুস্তক থেকে আওয়ামী বয়ান দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাতিল করে বিএনপির ইতিহাস বিকৃতিকারী ও স্বৈরাচারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

শনিবার সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩ জন শিক্ষক এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

এসময় পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী বয়ান সন্নিবেশন করে ইতিহাসকে বিকৃত করার সাথে জড়িত এবং বিগত দেড় দশক ধরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পক্ষে ভূমিকা পালনকারী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) কর্মরত দোসরদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হাতে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক বয়ান অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সেইসঙ্গে চব্বিশের ছাত্র-নাগরিক গণঅভ্যুত্থানের পরও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের যে বা যারা পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের নামে আওয়ামী বয়ানকে প্রচারে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতোমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, নবম-দশম শ্রেণীর "পৌরনীতি ও নাগরিকতা" বইয়ের "গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন ব্যবস্থা" শীর্ষক সপ্তম অধ্যায়ে গণহত্যাকারী ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসকারী আওয়ামী লীগকে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

বইটির একই অধ্যায়ে বিএনপি সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সাবেক সেনাপ্রধান উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে সামরিক শাসনামল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিতর্কের মুখে অনলাইন ভার্সনে এই বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলেও অনেক মুদ্রিত বইয়ে আওয়ামী বয়ান বহাল রয়ে গেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সম্পৃক্ত অল্প বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। তবে নবম ও দশম শ্রেণির "বাংলা সাহিত্য" বইয়ে 'আমাদের নতুন গৌরবগাঁথা' অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে 'পতন অত্যাসন্ন টের পেয়ে স্বৈরাচারী সরকার প্রধান পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।' এখানে শেখ হাসিনা কিংবা তার দল আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তারা বলেন, নবম-দশম শ্রেণীর 'বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা' বইয়ের 'সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক ত্রয়োদশ অধ্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেপ্তারসহ নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগকে নানাভাবে গ্লোরিফাই করা হয়েছে। একই পাঠ্যবইয়ের "প্রাচীন বাংলার ইতিহাস" শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়ে বখতিয়ার খিলজিকে একজন ভাগ্যন্বেষী যোদ্ধা বলে উল্লেখ করে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৃতীয় থেকে নবম-দশম শ্রেণীর "বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়" গ্রন্থে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের বিশাল ছবিসহ উপস্থাপন করে প্রকারান্তরে আওয়ামী বয়ানকে সুক্ষ্মভাবে গ্লোরিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর "বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়" পাঠ্যবইয়ে 'আমাদের চার নেতা' নামে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই অধ্যায়ে স্বাধীনতার ঘোষক এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত বিবরণও অর্ন্তভুক্ত করা যেত।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, উপজাতি-ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী- আদিবাসী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থাকার পরও নবম ও দশম শ্রেণীর "বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি" বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে "আদিবাসী" শব্দযুক্ত একটি গ্রাফিতি যুক্ত করা হয়েছিল। যার ফলে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তার পুরো দায়ভার জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের। সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ শেষে আমাদের প্রতীয়মাণ হয়েছে যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিএনপি সম্পর্কে তথ্য যথাযথভাবে পরিবেশিত হয়নি। একইসাথে ২০২৪ সালের ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাসও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। অপরদিকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বাকশালের ইতিহাস, গণতন্ত্র ধ্বংসের ইতিহাস, গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরার পরিবর্তে সুক্ষ্মভাবে আওয়ামী বয়ানকে গ্লোরিফাই করা হয়েছে।

জানুয়ারি মাস প্রায় শেষ হলেও অনেক শিক্ষার্থী বই না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এতে আরো বলা হয়, সরকারকে বিব্রত ও শিক্ষার্থীদের সরকারের বিরুদ্ধে মুখোমুখি করাতে এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ একটি শক্তিশালী চক্র এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বিএনপি, ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থান পাঠ্যপুস্তকে যথাযথভাবে উপস্থাপনে অবিলম্বে উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়াও সুক্ষ্মভাবে আওয়ামী যেসব বয়ানকে উপস্থাপন করেছে তা বাতিল করে আওয়ামী লীগের বাকশাল, গণতন্ত্র ধ্বংস ও গণহত্যার ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।###

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

শতাব্দী পেরিয়ে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জাতির বাতিঘর

ঢাবি ক্লাবের নেতৃত্বে অধ্যাপক সেলিম রেজা ও মহিউদ্দিন

চবির ২০২৬–২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে একসঙ্গে দুই ভাতা নয়

শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাওয়ার্ড পেল তা'মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা

রাবিতে ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকীতে সেমিনার

পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল মূলত বাংলার অর্থ-সম্পদ লুট করার জন্য: মাহমুদুর রহমান

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়েবসাইট হালনাগাদের নির্দেশ মাউশির

জাবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব