রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে ৬ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট।
তবে এখনও দাবি মানার কোন আশ্বাস না পেয়ে এবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রোববার বেলায় ১১টায় অবস্থান ধর্মঘট থেকে এই পদযাত্রা শেষে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. শামছুল আলম।
তিনি বলেন ১৯৭৮ সালের ৯ অর্ডিন্যান্স ২ এর ধারা মোতাবেক প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে ১৯৮৪ সনে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৩/০২/১৯৮৬ ইং তারিখে ১৪২ (৪০) নং স্মারকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে প্রাইমারি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সমমান নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার প্রাইমারি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদেরকে ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা ২০১০ এর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ন্যায় ইবতেদায়ী শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৩ সালে ৯ জানুয়ারি জাতীয়করণ ঘোষণা করেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাও জাতীয়করণ করা হয়নি।
এ সময় আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, জাতীয়করণ ঘোষণার দাবিতে ৬ষ্ঠ দিনের মত অবস্থান ধর্মঘট চললেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। যে কারণে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রাসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার প্রতিনিধি মো. ওমর ফারুক, আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. খোরশেদ আলম, মাওলানা জহুরুল আলম, মাওলানা মো. নূরুল আমীন, মাওলানা মো. আব্দুল হান্নান, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা মো. শামসুল হক আনসারী, মো. আঃ রহমান, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. তারেক আজিজ প্রমুখ।