চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে নির্বাহী সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আকাশ দাশ। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরে তাকে শপথ পাঠ করান উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
আকাশ দাশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের সময় তাকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
গত বছরের ২৪ অক্টোবর চাকসুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের একদিন আগে ধর্ষণ নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আকাশ দাশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার শপথ গ্রহণের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে ওই সময় তার শপথ আটকে দেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সভায় তোলা হয়। বোর্ডের ২১তম সভায় আকাশ দাশকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তাকে চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
শপথ গ্রহণ শেষে আকাশ দাশ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘ তদন্তের পর আমাকে শপথ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে আকাশ দাশের শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় শপথ নিতে না পারায় তার কার্যকর দায়িত্ব পালনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আকাশ দাশের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক বাধা দূর হলো। তবে চাকসুর মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকায় তিনি কতটা সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।