চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে হল মসজিদ সংস্কারকাজে টেন্ডারবাজির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চাকসু আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে নোমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হলের আসন দখলের জন্য প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়া এবং চাকসু ভিপিকে নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য করার অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। এ সময় চবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের পক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কাটিং তুলে ধরেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব।
লিখিত বক্তব্যে রনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের একক আধিপত্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক হেনস্তা ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।’
তিনি বলেন, চবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, শিক্ষক হেনস্তা, নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের মানহানি, ক্যান্টিনে বিনামূল্যে খাবার খাওয়া, হলের বই চুরি করে বিক্রি, নারী হেনস্তা, র্যাগিং, সাংবাদিকদের হুমকি, হলে মাদক সেবন ও দোকানিকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কোনো অপকর্ম বা ষড়যন্ত্রের কারণে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তার পুরো দায় ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান চাকসু ভিপি। তিনি বলেন, সম্প্রতি ছাত্রদলের একটি মিছিলের বক্তব্যে চাকসু ভিপির বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ আল নোমান। সেখানে নোমান দাবি করেন, ‘চাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পরে ১০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে বিয়ের আয়োজন করে।’
এ বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করে রনি বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য নোমানকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়েছেন চাকসু ভিপি। তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে নোমান যদি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তিনি স্বেচ্ছায় ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় নোমানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান রনি।
একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে তার মানহানির ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।