সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে ভাইভায় নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়।
বিক্ষোভে তারা ‘ভাইভার নামে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না’, ‘নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইভার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘ভাইভা কোটার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘প্রহসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘তারেক সরকারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম বলেন, ‘সরকার নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মূলত স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং দলীয় নিয়োগ করতে চায়। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এ ধরনের ছিনিমিনি খেলবেন না। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট হাসিনা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এ ধরনের ছিনিমিনি খেলতে চেয়েছিলেন। তিনি এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। এখন আপনাদের হাতেই সিদ্ধান্ত, আপনারা কোথায় অবস্থান করবেন। আশা করছি, শিগগিরই এই আইন বাতিল করে আপনারা শিক্ষার্থীদের অধিকার তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।’
ইবি শাখা ইসলামী ছাত্রআন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, ‘আমরা মনে করি না বিএনপি সরকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে, তাদের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধরনের আইন পাস করবে। যদি এমনটা হয়, তাহলে এটা হবে আপনাদের সর্বোচ্চ বোকামি। একজনকে যদি ১০, ২০ অথবা ৩০ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি করতে হয়, সেখানে একই রকমের ক্ষতি হয়। একটা অর্থ ক্ষয়, আরেকটা হলো মেধাবীদের বাইরে রেখে অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া। অর্থাৎ মেধাবীদের ক্ষতি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই না একজন কৃষকের ছেলে গ্র্যাজুয়েট হয়ে আবার কৃষিকাজ করুক বা একজন ভ্যানওয়ালার ছেলে গ্র্যাজুয়েট হয়ে টাকার অভাবে চাকরিতে ঢুকতে না পেরে আবার ভ্যান চালানো শুরু করুক। আমরা চাই না মেধাবীরা রাস্তায় থাকুক। শিক্ষার্থীরা সরকারের একটা পাওয়ার, শক্তি এবং সহযোগী। যে সরকার এই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে পারবে, যথাযথভাবে ইউটিলাইজ করতে পারবে, সেই সরকার এই দেশকে সোনায় সোহাগা করে সাজাতে পারবে।’
এআরবি