জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালে। এরপর ওই এলাকায় তৎকালীন হল প্রশাসন অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দ দেন। এরপর ২০২৪ সালে ওই এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল উদ্বোধন হয়। এই হলের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মালিকানায় আগে থেকে বরাদ্দকৃত কয়েকটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা চারটি দোকানের মালিকানা দাবি করেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা করেন তাদের হলের সামনের চারটি দোকানে তারা তালা ঝুলিয়ে দেবেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্র চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের একদল শিক্ষার্থী এলে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার খান বলেন, “আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা এসে প্রথমে দোকানগুলোতে মার্কিং করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কমবেশি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দু-একজন শিক্ষার্থী আহত হন।”
তিনি বলেন, “একপর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট তার শিক্ষার্থীদের হলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা আবার রবীন্দ্র চত্বরে ফিরে আসে। সেখানে কোনোভাবে একজন শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে মেডিকেলে পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, “এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর মহোদয়সহ দুই হলের ওয়ার্ডেন ও হাউস টিউটররা ঘটনাস্থলে আসেন। আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তাকর্মীরাও সেখানে আসে। আমরা দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “এক পক্ষ বলছে, তারা আগে গেলে আমরা যাব; অন্য পক্ষও একই কথা বলছে। ফলে কেউই আগে যেতে চাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, দুই হলের শিক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। এরপর আমরা বসে উভয় হলের জন্য যেটি ভালো হয়, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত ডাক্তার রিজওয়ানুর রহমান জানান, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অন্তত ৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সমাধানে তৎপর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।