হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

ফররুখ আহমদ, ৭ নভেম্বর, ২৮ অক্টোবর ও শহীদ আবরার ফাহাদকে নিয়ে প্রকাশনা

ডাকসুর উদ্যোগে চার স্মারক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন

প্রতিনিধি, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবি ফররুখ আহমদ, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ২৮ অক্টোবর এবং শহীদ আবরার ফাহাদকে নিয়ে প্রকাশিত চারটি স্মারক পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পুস্তিকাগুলো প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

প্রকাশিত চারটি পুস্তিকার মধ্যে রয়েছে—‘মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ: কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা’, ‘২৮ অক্টোবর: প্রেক্ষিত লগি-বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান’, ‘৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহীদ আবরার ফাহাদ’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। পুস্তিকাগুলোর সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসুর উদ্যোগে কবি ফররুখ আহমদকে নিয়ে প্রকাশিত পুস্তিকাটি একটি অনন্য ঘটনা। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ কবি ফররুখ আহমদকে দীর্ঘদিন ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ডাকসু সর্বজনীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। ৭ নভেম্বর, ২৮ অক্টোবর ও শহীদ আবরার ফাহাদের আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে আয়োজিত সেমিনারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য সম্পাদনা করে এসব পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, ফররুখ আহমদবিষয়ক পুস্তিকায় যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারের বক্তব্য, শহীদ আবরার ফাহাদ স্মারক পুস্তিকায় আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বক্তব্য, ২৮ অক্টোবরবিষয়ক পুস্তিকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্য এবং বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পুস্তিকায় ড. মাহদী আমিনের বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট সেমিনারের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা স্থান পেয়েছে।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, চারটি পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে ডাকসু অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজ করছে। ২৮ অক্টোবর এবং বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে যেমন প্রকাশনা করা হয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা কবি ফররুখ আহমদকেও স্মরণ করা হয়েছে।

তিনি পুস্তিকাগুলোর সার্বিক সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, প্রকাশিত চারটি পুস্তিকা ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে থাকবে। কোনো শক্তিশালী পক্ষ চাইলেও ইতিহাসের সত্য মুছে ফেলতে পারে না—এসব প্রকাশনার মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে যেসব বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেগুলো এখন নথিবদ্ধ হচ্ছে।

এস. এম. ফরহাদ আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার। অতীতে সংঘটিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু নথিবদ্ধকরণ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে একই ধরনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে না পারে।

শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ডাকসু কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ জাতীয় ঐক্য ও আধিপত্যবাদবিরোধী প্রতীক। একই সঙ্গে কবি ফররুখ আহমদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সিপাহী-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে যে বিপ্লব করেছিলেন, তা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

২৮ অক্টোবর ২০০৬-কে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ‘ভয়ংকর কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ওইদিন সংঘটিত ঘটনাগুলো ইতিহাসের অংশ হিসেবে নথিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশিত পুস্তিকাগুলো জাতির জন্য দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভয় দেখানো, আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না। এটি হবে জ্ঞানচর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নেতৃত্ব বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র।

ফ্যাসিবাদী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যেখানে রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা অবস্থানের কারণে কোনো শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসু কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত চারটি স্মারক পুস্তিকার সৌজন্য কপি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

পুস্তিকাগুলোর সহ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, হোসাইন আহমেদ জুবায়ের, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস ও সুহাইল মাহদীন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পুস্তিকাগুলোর সহ-সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম যুবা।

এ সময় ডাকসুর সম্পাদক এবি জুবায়ের, আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, হল সংসদের নেতৃবৃন্দ, পুস্তিকার সহ-সম্পাদক সাইমুম ফেরদৌস সৌরভ, আশফাক উল্লাহ আসিফসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের জন্ম বিএনপির হাতে: ডা. শফিকুর রহমান

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবায় রাবি প্রশাসনের ২ অ্যাম্বুলেন্স

রুমিনের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে আমি রাজি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তারাগঞ্জে ৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

টাকা পরিশোধের সময় জানা যাবে পূর্ণ রায় প্রকাশের পর

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির আত্মপ্রকাশ

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, সেই দুই এসিল্যান্ড বদলি

ভারতের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

মহেশখালী চ্যানেলে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের ৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা