বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় ফিলিপাইন দূতাবাসে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি গুণগত শিক্ষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে টেকনিক্যাল, হেলথকেয়ার ও ট্যুরিজম এডুকেশনে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপাক্ষিক বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল একাডেমিক নেটওয়ার্ক এবং দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত। শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।