হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভোস্ট বহাল, শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়া এবং অভিযুক্ত প্রভোস্টকে স্বপদে বহাল রাখার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রভোস্টের অপসারণের দাবিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।

ইব্রাহিমের দাবি, গত ১৬ আগস্ট তাকে হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। বরং প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন।

ইব্রাহিম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া এবং ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভোস্টকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমার অবস্থান কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ইব্রাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি প্রথমে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে ওই সময়সীমার মধ্যেও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে তাকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনার সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রয়েছে। এসব প্রমাণ থাকার পরো ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ইব্রাহিম। তিনি জানান, ওইদিন সকালে প্রক্টরকে তিনবার ফোন করা হলেও তার ফোন রিসিভ করা হয়নি। পরে প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত না হলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার কথা জানান তিনি।

ইব্রাহিমের দাবি, এরপর তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তার মধ্যে আরও হতাশা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুন এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। এ বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ইব্রাহিমের অভিযোগ, একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্বে বহাল রেখে তদন্ত পরিচালনা করা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলেও প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে ইব্রাহিম দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া এবং অভিযুক্ত প্রভোস্টের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে মানসিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এআরবি

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না: মুসাদ্দিক

জবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমদ

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন আগামী ২৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর থেকে

জাবিতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি, মানতে হবে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা

অবশেষে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির সেই অধ্যাপক

জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত ইবির শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

৩৪ দিন পর শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

৩০ কোটি টাকার যন্ত্র আছে, ব্যবহার খুবই সীমিত

ব্রহ্মপুত্রের কোলে কাশফুলের রাজ্য

আজ থেকে রাবি স্টেশনে থামবে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন