নিয়োগের ১৮ দিন পরও আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এরই মধ্যে দুই দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর এ দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক আরাফাত রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থার মধ্যে উপাচার্যের এ দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ১০ অক্টোবর বিকেলে ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের। ১১ ও ১২ অক্টোবর ওই সভায় অংশ নেবেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফেরার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। গত ৯ অক্টোবর ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব অর্পণ করেন উপাচার্য।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, উপাচার্যের পদ শূন্য হলে কিংবা ছুটি, অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত অথবা আগের উপাচার্য দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত উপ-উপাচার্য দায়িত্ব পালন করবেন, যদি আচার্য ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দেন। উপ-উপাচার্য না থাকলে বা অনুপস্থিত থাকলে ট্রেজারার অথবা জ্যেষ্ঠতম ডিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এবার কোনো অনুষদের ডিনকে দায়িত্ব না দিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেকোনো একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দিলেই চলে। ডিনদেরকেই দিতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।’
অধ্যাপক আরাফাত রহমান বলেন, ‘রুটিন দায়িত্ব আমি যেখানে থাকব, সেখানেই। এটা যে উপাচার্য ভবনে যেতে হবে, এমন কোনো বিষয় না। দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে যদি ভিসি মহোদয়ের কোনো কাজ থাকে, সেটা দেখব।’
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৮ দিন ধরে অচলাবস্থা
এদিকে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে চুয়েটে অচলাবস্থা গড়িয়েছে ১৮তম দিনে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে চুয়েট শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও। গত ৯ অক্টোবর শিক্ষক সমিতি সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন উপাচার্যের নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
গত ১৮ দিন ধরে চুয়েটের উপাচার্যের দপ্তরের ফটকে তালা ঝুলছে। সেখানে একটি বার্তায় লেখা রয়েছে, ‘এই তালা শুধু সায়েম স্যার খুলতে পারবেন।’
নিয়োগের পর থেকে ক্যাম্পাসে যেতে না পারলেও নগরীর সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনলাইনে যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান তিনি।
এ অবস্থায় একদিকে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘদিনের এ সংকট কবে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।